Ariyan32-
Ariyan32
Religious Fiction
15 Apr 2022 (1 month ago)
kalampor , dhaka, Dhaka , Bangladesh
ইসলামিক গল্প 🥰🥰

#লক্ষ্য_যখন_জান্নাত
লেখকঃতরিকুল ইসলাম তারেক।

[১]

হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। হঠাৎ, মেয়েলী একটা কণ্ঠ কানে আসলো, “আসসালামু আলাইকুম।”

–“ওয়ালাইকুম আসসালাম।” ছোট্ট আওয়াজে জবাব দিলাম। অন্যদিনের মতো আজ আর ঐ কণ্ঠটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারলামনা! আজ নিয়ে লাগাতার সাতদিন মেয়েটি আমাকে সালাম দিলো। আজকে আমি রাস্তার ডানে আর মেয়েটি বাম পাশে বিপরীত দিকে যাচ্ছে। তবু, বড় গলায় সালাম দিলো। কেন জানি মনে হচ্ছে যে, মেয়েটা পরিচিত কেউ। কিন্তু, আমাদের পাড়ায় এইরকম পূর্ণ পর্দানশীল মেয়ে আছে বলেও আমার জানা নেই। কাকতালীয়ভাবে প্রতিদিনই আসরের ঠিক আগমুহূর্তে একই জায়গায় মেয়েটার সাথে দেখা হয় আর সে সালাম দেয়। এতদিন ভাবতাম যে, ‘হয়তো হুজুর বলেই। রাস্তাঘাটে কত মানুষই তো সালাম দেয়, যাদের আমি চিনিনা, জানিনা!’ কিন্তু, আজকে মনের ভিতর অন্যরকম একটু কৌতূহল জাগলো। মেয়েটাকে চেনার কোনো উপায়ও নেই। অবশ্য, চেনার কথাও না। কারণ, আজ পর্যন্ত তো আমি মাথা তুলে ভালোভাবে কখনো দেখিইনি।

সেই ছোটবেলা থেকেই আমার একটা বদঅভ্যেস আছে, ‘কখনো কোনো বিষয়ে কৌতূহল জন্মালে, শেষটা না জানা পর্যন্ত, আমি ক্ষান্ত হতে পারিনা।’ কৌতূহল মেটাতেই হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে, ‘মেয়েটা সম্পর্কে আমার দূর সম্পর্কের চাচাতো বোন হয়। বয়সে আমার থেকে তিন বছরের বড়। গতবছর বড় ঘরে বিয়ে হলেও, বিয়ের তিনমাসের মাথায় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আগে ধর্মকর্ম বলতে, শুধু নামাজ আর রোজায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন পূর্ণরূপে দ্বীনের পথে চলতে চেষ্টা করে। এমনকি, আগে ঠিকঠাক পর্দা করতোনা। এখন নিকাবসহ, হাত এবং পায়ে মোজাও পরে।’

[২]

কয়েকদিন ধরে মনে মনে পাত্রী অনুসন্ধান করছি। পরিবারও খুঁজছে। নিকট ও দূরের আত্নীয়দেরকে পর্যন্ত বলা হয়েছে। অবশ্য, আম্মাও আমাকে বেশ কয়েকদিন থেকেই প্রশ্ন করে আসছিলেন, ‘আমার পছন্দের কেউ আছে কিনা?’ কিন্তু, আমি বরাবরই ‘না’ বলেছি। তবে, আজ রাতে ভাত খাওয়ার সময় আম্মার কাছে জানতে চাইলাম, “আম্মা, আপনি কি সুমি আপুকে চেনেন?”

–“কার কথা বলছিস?”

–“ওই আমাদের তালুকদার বাড়ীর…।” আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে আম্মা পাল্টা প্রশ্ন করলেন, “আব্দুর রহমান ভাইয়ের মেয়ে?”

–“জি, আম্মা।”

–“হ্যা, তাকে তো খুব ভালো করেই জানি।” মুখে বিশ্বজয়ী হাসি রেখে গর্বের সঙ্গে বললেন।

–“মেয়ে হিসেবে কেমন?”

–“খুব ভালো। তবে, বেচারীর কপালটা খারাপ। নয়তো এতো ভালো একটা মেয়ের কপালে কি ওরকম লোভী জামাই জুটে?” এই পর্যন্ত বলেই আম্মা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানতে চাইলেন, “কিন্তু, হঠাৎ তার কথা কেন জিজ্ঞেস করছিস?”

–“না মানে… ইয়ে… আম্মা, আপনি তো আমাকে ক’দিন ধরে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আমার পছন্দের কোনো মেয়ে আছে কি-না’?”

–“হ্যা, আছে কেউ? থাকলে তো ভালোই, বল।”

–“সুমি আপুকে বৌমা করে নিয়ে আসুন।” বলেই মায়ের চোখের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে, তিনি তাঁর প্লেটে ভাত রেখেই হাত ধুয়ে নিয়েছেন। অল্প কিছুক্ষণ চুপ থেকে রাগী মুখে বললেন, “তারেক, তুই কি পাগল হয়ে গেছিস! জানিস না, মেয়েটা ডিভোর্সী, আর ভালো মেয়েদের কখনো ডিভোর্স হয়, দুনিয়াজুড়ে কোথাও শুনেছিস?”
আম্মার রাগ উঠলে, আমাকে নাম ধরে ডাকেন। নয়তো প্রায় সবসময়ই বাবা ডাকেন। বললাম,
“একটু আগেই তো বললেন, সে খুব ভালো!”

–“হ্যা, ভালো। তাই বলে, তোর জন্য কি দুনিয়ায় মেয়ের এতোই অভাব পড়েছে যে, ডিভোর্সী এক মেয়েকে বৌ করে আনতে হবে? আবার এমনও তো না যে, তোর অনেক বয়স হয়ে গেছে, এখন আর বউ-ই পাওয়া যাবে না!”

তারপর আম্মা আরো অনেক কথা বললেন। বলে বলে নিজের রুমে চলে গেলেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুধু শুনে গেলাম। কারণ, আমি খুব ভালো করেই জানি, আম্মার কথা শেষ হওয়ার পর যদি কুরআন এবং হাদীসকে সামনে রেখে কিছু কথা বলি, তখন তিনি ঠিকই বুঝবেন, রাজিও হবেন।

আমি তখন আম্মার প্লেটের ভাতসহ খাওয়া শেষ করে মায়ের রুমে গিয়ে উনার হাতপায়ের আঙ্গুল টেনে দিতে দিতে কিছু কথা বলার পর তিনি ঠিক বুঝতে পারলেন এবং বললেন, “বুঝলাম, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রায় সকল স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা ছিলেন। কিন্তু, সুমি তোর থেকে বয়সেও তো অনেক বড়!”

–“বয়সে বড় কাউকে বিয়ে করাও সুন্নাত। কারণ, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী মা খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহাও, তো রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বয়সে ১৫ বছরের বড় ছিলেন।”

–“তা বুঝলাম। কিন্তু বাবা, সমাজের মানুষ কী বলবে?” চিন্তিত কণ্ঠে আম্মা জানতে চাইলেন।

–“সমাজ যাচ্ছেতাই বলুক। সমাজের কথা কানে নেওয়ার কোনো দরকার নেই। আমরা তো এটাই চাই যে, মানুষেরা জানুক, তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা মহিলাদের বিয়ে করে, দায়িত্ব নিতে, স্বয়ং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখিয়ে গেছেন। তাছাড়া, কমবয়সী একটা মেয়ের ডিভোর্স হলে অথবা স্বামী মারা গেলে, সেই মেয়ে কিংবা তার পরিবার কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা নিশ্চয়ই জানেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হল, আল্লাহর তাআলার সন্তুষ্টির মাঝখানে আমরা সমাজকে দেয়াল বানাবোনা, মা।”

–“আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি সুমির মায়ের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলবো, ইনশাআল্লাহ।”

–“শুকরিয়া আম্মাজান।” বলেই মায়ের কপালে চুমু খেয়ে, সালাম দিয়ে রুম থেকে বের হলাম।

[৩]

বাজারে জামে মসজিদের সামনেই একটা বিশাল আকারের জামগাছ। ছোটবেলা থেকেই গাছটির জাম খেয়ে আসছি। সামান্য বাতাস হলে টপাটপ জাম পড়ে। আজও মৃদুমন্দ বাতাসে জাম পড়ছে। বাচ্চারা সেই জাম কুড়িয়ে বোতলের ভেতর জমা করতেছে। এই গাছের জাম দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মিষ্টি। জামগাছের ডান দিকটাতে আব্দুর রহমান চাচার দোকান। দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে সালাম দিতেই, তিনি সালামের জবাব দিয়ে পাল্টা জানতে চাইলেন, “কেমন আছো? বাসার সবাই ভালো তো বাবা?”

–“আলহামদুলিল্লাহ চাচা, সবাই ভালো আছেন। আপনি কেমন আছেন?”

–“আলহামদুলিল্লাহ, ভালোই।”

–“চাচা, আপনার সাথে ব্যক্তিগত কিছু জরুরী কথা ছিলো। দয়া করে একটু বের হবেন?”

চাচা বের হলেন। আমরা সামনের একটা হোটেলে গিয়ে বসলাম। আম্মাকে না জানিয়ে সোজা চাচার সাথে কথা বলতে আসার অন্যতম প্রধান কারণই হলো, ‘চাচা যদি রাজি না হন, তো, আম্মাকে দিয়ে দ্বিতীয়বার আর তাদের বাসায় প্রস্তাব পাঠাবোনা।’

চাচা বললেন, “কি এমন জরুরী কথা, শুনি!”

–“আসলে চাচা, আমি আপনার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। আপনি আমাকে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন, আমাকে বা আমার পরিবারকে খুব ভালো করেই চেনেন। তাই, আপনার সম্মতি পেলে, তবেই, আমার পরিবারকে দিয়ে আপনার বাসায় এই বিষয়ে প্রস্তাব পাঠাবো, নয়তো না।” একশ্বাসে এতটুকু বলে থামলাম। তিনি মুচকি হাসলেন, রহস্যময় হাসি। তারপর মুখে হাসি রেখে বললেন, “দেখো বাবা, তুমি হয়তো জানো, সুমি তোমার চেয়ে বড় আর…।” আমি চাচাকে কথার মাঝখানে থামিয়ে বললাম, “আমি সবকিছু জেনেশুনেই এসেছি।”

–“কিন্তু, এছাড়াও আমাদের মেয়ের একটা দোষ আছে। এতে তোমার আপত্তি না থাকলে, আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে, তুমি মাদরাসা পড়ুয়া। তুমি হয়তো জানো, সূরা নিসার ১৯ নং আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, ‘নারীদের মধ্যে আমাদের পুরুষদের এমন কিছু অপছন্দের গুণ থাকতেই পারে, হোক তা, মেয়ের গাঁয়ের রঙ কালো, দেখতে বেঁটে কিংবা অন্য যেকোনো দোষ। কিন্তু, মহান আল্লাহ তাআলা তাতে বহুত কল্যাণ রেখেছেন। ওই আয়াতে কিন্তু, ‘খাইরান কাছীরা’ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে। যার অর্থ হলো, ‘অনেক বেশি খাইর বা কল্যাণ’। হয়তো, তুমি এটা বুঝতে পেরেছো। কিন্তু, তোমাদের পরিবার কি আমাদের সুমিকে মানবেন?”

–“জি, ইনশাআল্লাহ মানবেন।”

–“ঠিকাছে, আমি তোমার চাচীর সাথে কথা বলে তোমাকে জানাবো। তোমার নাম্বার টা দিয়ে যাও।”

ততক্ষণে ওয়েটার পরোটা ও ভাজি দিয়ে গেছে। খেতে খেতে নাম্বার দিলাম। বিল দিতে চাইলেও, পারিনি। চাচার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, বাসার উদ্দেশ্য হাঁটা শুরু করলাম। আর মনে মনে খুব হাসতে হাসতে ভাবতে লাগলাম, ‘আমার এতো সাহস হলো কীভাবে?’ আমার এখনো বিশ্বাস-ই হচ্ছে না যে, ‘একটু আগে আমি, আমার বিয়ের প্রস্তাব স্বয়ং হবু শ্বশুর মশাইকেই দিয়ে এসেছি!’ তবে, সবচেয়ে বেশি অবাক হচ্ছি এটা ভেবে যে, ‘একজন স্কুলের ছাত্র, যিনি কর্মজীবনেও একটা প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন, তিনি কতো সুন্দর, চমৎকারভাবে আজ কুরআনের একটি আয়াতের তাফসীর বললেন!’

[৪]

আজকের আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন। মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা কয়েকজন বন্ধু গ্রামের বিখ্যাত বটগাছের নিচে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর কনে দেখতে, আব্দুর রহমান চাচার বাড়ীতে যাবো। এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “মাত্র ক’দিন আগেই মেয়েটার সম্পর্কে জানলি। তাহলে, এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাচ্ছিস কেন? ক’দিন সময় নিয়ে, আরো যাচাই করে তারপর না হয়…।”

–“সবসময় মনে রাখবি, ‘দন্ত্যস’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া তিনটি বাংলা শব্দ কারোর জন্যই কখনো অপেক্ষা করেনা।” বলেই বিজ্ঞের মতো একটা মুচকি হাসি দিলাম। পাশ থেকে আরেক বন্ধু আগ্রহের সুরেই বললো, “কোন তিনটি শব্দ?”

–“সময়, স্রোত আর সুন্দরী। হেহেহেহে।” আমার কথা শুনে, বন্ধুরা সবাই একসাথেই হাসতে শুরু করলো। তারপর আমি বললাম, “আসলে এখন শাওয়াল মাস চলছে। আর শাওয়াল মাসে বিয়ে করাটা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। এটাই হচ্ছে, মূল কারণ।”

এবার সবাই একসাথে বললো, “ওহ্, বুঝলাম।”

আমার খুব ভালো বন্ধু হাবীব। তার যেন সংশয় কাটছেনা। সে জিজ্ঞেস করলো, “তারপরও, সুমি আপুর মধ্যে তুই এমন কি দেখলি যে, যার জন্য এতো তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করতে চাচ্ছিস?”

–“দেখ বন্ধু, কোনো জেনারেল শিক্ষিত ছেলে বা মেয়ে যখন দ্বীন মানতে শুরু করে, তখন সে অন্য আর দশটা দ্বীন মেনে আসা ছেলে-মেয়ের চেয়েও ভালো দ্বীন মানতে চেষ্টা করবে। এটা স্বাভাবিক। এমন কাউকে নিয়ে জান্নাতের পথে চলা সহজ।”

–“তাও ঠিক।” হাবীবের সাথে অন্যরাও একমত।

ঠিক তখুনি মাসজিদ থেকে আযানের সুর ভেসে আসল। বললাম, “জোহর পড়ে বের হবো, যাই।”

[৫]

কনে দেখা পর্ব শেষে আমাকে এবং সুমি আপুকে আলাদা একটা রুমে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে, আমরা ছাড়াও রুমে একটা পিচ্চি মেয়ে ও একজন বৃদ্ধা অদূরে বসে আছেন। আজকে প্রথমে আমিই মুখ খুলে সালাম দিলাম, “আসসালামু আলাইকুম।”

–“ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।”

–“কেমন আছেন?”

–“আলহামদুলিল্লাহ, আপনি কেমন আছেন?”

–“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।”

তারপর দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম। যেন কথা ভুলে গিয়েছি। এবারও নিরবতা ভেঙ্গে আমিই বললাম, “তাহলে, আমি উঠি?”

–“আমার একটা কথা ছিলো।” আবার তিনি চুপ।

–“জি, বলতে পারেন।” বলেই ভাবনার সাগরে হারিয়ে গেলাম। মনের ভেতর একটা আতংক ছড়িয়ে পড়লো। মাথায় বেশকিছু প্রশ্নও উদয় হলো, ‘তাহলে কি, সুমি আপু না করে দিবেন? কিন্তু, কেন? উনার থেকে বয়সে ছোট বলে, না আমি কালো বলে, নাকি অন্য কোনো কারণে?’

তখনি তিনি বললেন, “আমার খুব বড় একটা স্বপ্ন, আমি একদিন পুরো কুরআনের হাফেজা হব, আপনি তো হাফেজ। আপনি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে আমাকে কি হেল্প করবেন?” বলে আমার দিকে তাকালেন। আমিও সুযোগ বুঝে একনজর দেখে বললাম, “আলহামদুলিল্লাহ। আমারও স্বপ্ন ছিল, কোনো হাফেজা মেয়েকে জীবনসঙ্গী করার। চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।”

–“তাহলে, মোহর হিসেবে আমি চাই যে, আপনি আমাকে কুরআন শুদ্ধভাবে পড়াবেন, হাফেজা হতে হেল্প করবেন। এটা আমার অনুরোধ।”

–“না, তা সম্ভব নয়।”

–“কেন?” মুখ কালো করে অবাক হয়ে জানতে চাইলেন। মনে হচ্ছে, এখুনি কাঁদতে শুরু করে দিবেন। বললাম, “আপনি কোন মাজহাব ফলো করেন?”

–“হানাফী।”

–“আমিও তাই। আর এজন্যই, মোহর হিসেবে ঐ দাবী মানা যাবেনা। কারণ, হানাফী মাজহাব মতে, ‘মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণই হলো, ১০ দিরহাম।’ যদিও শাফেয়ী মাজহাব মতে, স্বামীস্ত্রী উভয়ের মতামতের ভিত্তিতে যেকোনো পরিমাণ ‘সম্পদ’ নির্ধারণ করতে পারবে। কিন্তু, আমরা দুজনেই যেহেতু হানাফী আর হানাফী মাজহাব অনুযায়ী, ‘যার বাজার দাম কমপক্ষে ১০ দিরহাম, এমন কিছুকেই মোহর হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে’।”

–“ওহ্ আচ্ছা। তবে, এটা করা যাবে না, মোহর হিসেবে প্রথমে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্ট নির্ধারণ করলাম। তারপর প্রতিমাসে বেতন বাবত সেই নির্ধারিত এমাউন্ট থেকেই টাকা কেটে নিলাম? কারণ, আমি মাদরাসায় পড়লেও বেতন দিতে হতো, সেটা না হয় শিক্ষক হিসেবে আপনাকেই দিয়ে দিলাম?”

বুঝতে পারলাম, মেয়েটা যথেষ্ট প্রত্যুতপন্নমতিও বটে। বললাম, “হ্যা, তা অবশ্য হবে। কিন্তু, আমি এভাবে রাজি নই। তাছাড়া, আমার বা আপনার পরিবারের মতামত শুনে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।” এইটুকু বলেই সালাম দিয়ে বিদায় নিলাম।

[৬]

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। কারেন্ট নেই। গ্রামে এটাই মূল সমস্যা, সামান্য বাতাস শুরু হলেই, কারেন্ট চলে যায়। বিকাল থেকেই মনে মনে সুযোগ খুঁজতেছি, আম্মার সাথে একাকী কথা বলার। এখন মাগরিব পড়ে এসে দেখলাম, আম্মা এখনো জায়নামাজেই বসে আছেন। ভাবলাম, এটাই সুবর্ণ সুযোগ। তাই, দেরী না করে সালাম দিয়ে রুমে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আম্মা সালামের জবাব দিতে দিতে ‘হ্যা বোধক’ মাথা নাড়লেন। জানতে চাইলাম, “আম্মা, আপনার কি তাসবীহ পড়া শেষ?”

–“শেষই প্রায়। কিছু বলবি?”

–“জি, আম্মা। আমাদের বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন ঠিকই। কিন্তু, মোহর তো নির্ধারণ করা হয়নি এখনো।”

–“এটা তো এতো আগেই নির্ধারণ করতে হবেনা। সময় তো চলে যায়নি। এসব বিয়ের দিনও ঠিক করা যাবে।”

–“সময় না গেলেও, মোহর নির্ধারণ করে তারপর বিয়ে করাটা উত্তমই নয়, ইসলামী পদ্ধতিও বটে। আর তাছাড়া, বিয়ের দিন মোহর নির্ধারণ নিয়ে দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব।”

–“তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু, আমরা নিজেরা নির্ধারণ করে নিলেই হবে, মেয়েপক্ষের কারো সাথে কথা বলতে হবেনা? তাদেরও তো দাবী থাকতে পারে।”

–“তাতো অবশ্যই। তবে, আমরা গত সপ্তাহে সুমি আপুদের বাড়ীতে বউ দেখতে যখন গিয়েছিলাম, তখন সুমি আপু বলেছিলো, ‘উনি মোহর হিসেবে টাকা চান না। বরং উনি চান, উনাকে যেন আমি হাফেজা হতে হেল্প করি। কিন্তু, আমি তখনই না করেছিলাম’।”

–“না না, তা হবে না!, আমাদের তো মান-ইজ্জাত থাকবেনা! লোকেইবা শুনে, কি বলবে? তারচেয়ে বরং, তুই সুমির বাবার সাথে কথা বলে, ৫ লাখের আশেপাশেই একটা এমাউন্ট নির্ধারণ করে নিস।”

–“আম্মা, ৫ লাখ টাকা?”

–“হ্যা, সুমি ডিভোর্সী না হলে, হয়তো আরেকটু বেশিই দিতাম। তাও, কম হলো কোথায়?”

–“আমি কম হয়েছে বলিনি, আম্মা। এতো বেশি মোহর পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে?”

–“পরিশোধ কি এখন নগদ করবি? এটাতো শুধু খাতাপত্রে থাকবে। তাছাড়া, এরচেয়ে কম দিলে, আমাদের মানইজ্জত থাকবে?”

–“কিন্তু আম্মা, বিয়ের মোহর আদায় করা ফরজ। এটা বিয়ের রাতের মধ্যে পরিশোধ করা ওয়াজিব। তবে, স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে আদায় করার সুযোগ রয়েছে। আর হাদীসে এসেছে, ‘যে বিয়েতে খরচ কম, সে বিয়েতে বরকত বেশি’।”

–“কিন্তু, আমাদের দেশে তো দেখা যায়, বিয়ের আগে গহনা কিছু দেওয়া হয়। যার মূল্য মোহর থেকে কাটা হয়। আর বাকী মোহর শুধু তালাক হলে তখনই দেয়, নয়তো আর দেয়না।”

–“সত্যি হলেও তা দুঃখজনক। মোহর হচ্ছে, স্ত্রীর হক। ইসলামের কথা হলো, ‘স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী, মোহর নির্ধারণ করা।’ এমনকি, হাদীসে বলা হয়েছে, ‘সর্বোত্তম মোহর হলো, সহজসাধ্য মোহর।’ তাই, যদি কেউ কথিত সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বা বড়ত্ব প্রকাশ করতে, সামর্থ্যের বাইরে মোহর নির্ধারণ করে, অথচ, পরিশোধ করার ইচ্ছা না থাকে, তাহলে, সে ব্যক্তিকে কিয়ামতের মাঠে যিনাকারীদের কাতারে দাঁড়াতে হবে। আর আমরা তো দেশের পদ্ধতি অনুযায়ী চলবোনা। তাই, বলছিলাম যে, আমরা আপাতত একটা এমাউন্ট নির্ধারণ করলাম আর তা থেকেই কিছু টাকা দিয়ে গহনাপত্র কিনে, বাকী টাকাটা নগদে দিলাম।” কথাগুলো বলে থামতেই আম্মা বললেন, “তা অবশ্য, ভালো বলেছিস। তাহলে, তুই কত টাকা দিতে চাচ্ছিস?”

–“রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক ৫০০ দিরহাম অর্থাৎ ১৫৭৫০০ টাকা দিতে চাই।”

–“এতো কম টাকা সুমির পরিবার মানবে?”

–“আশাকরি, মানবেন। এবার আপনি বলুন, তারমধ্য থেকে কত টাকার গহনা বানাবো?”

–“আচ্ছা। তাহলে, সুমির বাবাকে সাথে নিয়ে তুই এক লাখের মধ্যে, কিছু ভালো ডিজাইনের গহনা অর্ডার দিয়ে আয়। তবে, তার আগেই, আরেকটা কাজ করবি, সুমির বাবার সাথে মোহরের বিষয়ে কথা বলে এমাউন্টটা নির্ধারণ করে নিস।”

–“তাহলে তো, আরো ভালো হয়। তবে, আমি এখন যাই। আসসালামু আলাইকুম, আম্মা।” বলেই আম্মার কপালে একটা চুমু খেয়ে রুম থেকে বের হলাম।

[৭]

বাসা থেকে বের হয়ে আব্দুর রহমান চাচার নাম্বার ডায়াল করলাম। সালাম দিয়ে, কুশলাদি বিনিময় করতে গিয়েই বিপত্তিটা বাঁধলো। এতোদিন ধরে, উনাকে চাচা বললেও, এখন ‘কী বলে ডাকবো’ ভাবতে ভাবতে কোনো সম্বোধন ছাড়াই জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার সাথে একবার দেখা করতে চাইছিলাম। আপনি কখন ফ্রী থাকবেন?”

–“বাবা, আমি এখন বাসায় আছি। আমার ছোট ভাইও এসেছে। তুমি এখুনি বাসায় চলে এসো।”

–“জি আচ্ছা, আসছি।” বলে কল কেটে হাঁটতে লাগলাম। শুনেছিলাম, সুমি আপুর ছোট চাচা আর্মিতে কাজ করেন। আমার সাথে কোনোদিন দেখা হয়নি। মনে মনে ভাবলাম, ভালোই হলো, চাচা শ্বশুরের সাথেও পরিচিত হওয়া যাবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই হবু শ্বশুর মশাইয়ের বাড়ীতে পৌঁছে গেলাম। ছোট চাচার বয়স ৪০ এর মতো হবে। দেখতেও, যথেষ্ট স্মার্ট। আমরা পাশাপাশি বসে আছি। শ্বশুর মশাই আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, “এখানে কি বলা যাবে? নাকি আমার সাথে আলাদা বলতে হবে?”

–“জি, এখানে বলা উত্তম হবে। আসলে, আমার তো আগে থেকেই নিয়ত ছিলো, আমাদের বিয়ে সুন্নাহ মোতাবেক হবে। এমনকি, এটা আপনাকে বলেছিলাম। তাই, মোহরের বিষয়ে কথা বলতেই আম্মা আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।”

–“এটা পরেও নির্ধারণ করা যাবে।” ছোট চাচা জবাব দিয়ে দিলেন। আমি বললাম, “কিন্তু চাচা, আগে নির্ধারণ করাই উত্তম। এতে করে গহনার জন্য একটা এমাউন্ট রেখে বাকীটুকু বিয়ের দিন পরিশোধ করতে আমাদের জন্যও সুবিধা হবে।”

–“আচ্ছা, বসো। আমি সুমির মায়ের সাথে একটু কথা বলে আসি।” এই বলে আব্দুর রহমান চাচা দাঁড়াতেই আমি বললাম, “সুমি আপুর সাথেও কথা বলে আসবেন। এটা উনার হক। উনারও কোনো কথা থাকতে পারে।”

কিছুক্ষণ পর হবু শ্বশুর মশাই হাতে চা-নাস্তাসহ ফিরে এসে বললেন, “সুমি ও তার মায়ের সাথে কথা বলেছি। তাছাড়া, কুরআনে পুরুষদের বলা হয়েছে, ‘সন্তুষ্ট চিত্তে স্ত্রীদের মোহর দিয়ে দিতে।’ তাই, তোমরা যা-ই দিবে, আমরা তাতেই খুশি।”

–“রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহর ছিলো ৫০০ দিরহাম। যার বর্তমান মূল্য, এক লক্ষ সাতান্ন হাজার পাঁচশো টাকা। আমরা এরকমই দিতে চাই।”

–“আলহামদুলিল্লাহ। আমরা রা…।” শ্বশুর মশাই এই পর্যন্ত বলতে না বলতেই, এতক্ষণ পর ছোট চাচা হবু শ্বশুর মশাইয়ের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে, তিনি অবাক হয়ে বললেন, “মানে? এতো কম টাকাতে দুনিয়া জুড়ে কোথাও কাবিন হয় নাকি? তাছাড়া, আমাদের ভাতিজীর ভবিষ্যৎ সিকিউরিটি বলে একটা ব্যাপার আছেনা?”

আমি কিছু বলতে যাবো, তার আগেই সুমির বাবা বললেন, “সুমির প্রথম বিয়েতেও ৭ লাখ নির্ধারিত ছিলো। কই, তখন তো সেটা সিকিউরিটির কাজে আসেনি। অবশ্য, তা আল্লাহর ইচ্ছা। তাই, ‘মোহর কম হলেই, নিরাপত্তা কম এবং মোহর বেশি হলে, সিকিউরিটিও বেশি’ এটা ভুল ধারণা। বরং, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বরকত রয়েছে সে নারীর মধ্যে, যে নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সহজ এবং যার মোহর অল্প।’ সুতরাং আমরা চাই, আমাদের মেয়েও বরকতময়ী হোক।”

ছোট চাচা আর দ্বিতীয়বার কিছু বলেননি। বুঝা গেলো, উনি উনার বড় ভাইয়ের কথা খুব ভালো বুঝতে পেরেছেন। তবে, আজকেও হবু শ্বশুরের কথা শুনে আমি মুগ্ধ হলাম। ভাবলাম, প্রাইমারি স্কুলের সাবেক একজন শিক্ষক এতো চমৎকার এবং সুন্দরভাবে কেউ দ্বীন বুঝতে এবং মানতে পারে, এটা উনাকে না দেখলে, বুঝাই যেতোনা। আলহামদুলিল্লাহ। চায়ে শেষবারের মতো চুমুক দিতেই ঈশারের আযান শুনা গেলো। বললাম, “তাহলে, গহনা কবে অর্ডার করবেন?”

–“আগামীকাল একবার আমার দোকানে যেও।”

–“জি, ইনশাআল্লাহ। আজ তাহলে উঠি…!”

–“না, এসেছো যখন রাতের খাবার খেয়েই যাও।” উনার সাথে ছোট চাচাও তাল মিলিয়ে মাথা নেড়ে আমন্ত্রণ জানালেন। তখন আমি বললাম, “সমস্যা নেই। অন্য কোনোদিন হবে, ইনশাআল্লাহ।” বলেই সালাম দিয়ে বিদায় নিলাম।

[৮]

আজকে সাদামাটাভাবেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে। আমি আগে থেকেই রুমে ডুকে বসে আছি, আর উনার অপেক্ষা করছি। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো। উনি সালাম দিয়ে প্রবেশ করতেই, কি মনে করে, আমি সালামের জবাব দিতে দিতে দাঁড়িয়ে গেলাম। পা কাঁপছে। কিন্তু, ভয় পাচ্ছি না আবার। শান্তভাবে বললাম, “আপনার ওযু আছে?”

তিনি জবাব না দিয়েই মাথা উপর নিচ করলেন। বুঝলাম, ওযু করেই এসেছেন। ততক্ষণে দু’টো জায়নামাজ আগ-পিছ করে বিছিয়ে বললাম, “আমার পিছনে দাঁড়ান।”

দুই রাকাত নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে পিছনে ঘুরলাম। এখনো উনার মাথার ঘোমটা সরান নি। কিছুক্ষণ নিরব থেকে নিজেই সরিয়ে উনার ডান কপালে হাত দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উনার মধ্যকার কল্যাণ ও উনার মাধ্যমে কল্যাণ চাই। তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই।” তারপর ধীরে ধীরে হাতটা নামিয়ে পকেট থেকে একটা আংটি বের করে উনার ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলে পড়িয়ে দিয়ে বললাম, “এটা আপনার জন্যই আর এটার বিশেষত্ব হলো, এর উপরিভাগে আমাদের দুজনের নামের প্রথম অক্ষর লিখা রয়েছে, ‘টি+এস’ এভাবে।”

তিনি আংটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমাকে লজ্জা দিয়ে দিলেন। আমি আপনার জন্য কিচ্ছু আনতে পারলামনা। অবশ্য, আমি জানতাম না, আপনি আমার জন্য এমন কিছু রাখবেন। জাযাকাল্লাহ।”

–“সমস্যা নেই।” বলেই তার হাতে টাকার একটা বাণ্ডিল দিয়ে বললাম, “আর এগুলো আপনার মোহর। আর বাকীগুলো আপনার গহনা বাবত। তবে, আংটিটা কিন্তু মোহর হিসেবে নয়, উপহার। তাই, আংটির দাম গহনার সাথে এড করা হয়নি।”

–“এখানে কত টাকা আছে?”

–“পয়ষট্টি হাজার ৫০০ টাকা।”

–“কিন্তু, আমি তো আগেই বলেছিলাম, আমাকে হাফেজা বানাবেন। সেটাই আমার মোহর। তবুও, আপনি মানলেননা। তো, গহনার জন্য যা দিলেন, তা থাকুক। আর প্লিজ, এই টাকাগুলো নিয়ে নিন। আমার লাগবেনা।”

–“না, তা হতে পারেনা। আমি এমনিতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো এবং সময় দিবো, আপনার হিফজ সম্পন্ন করতে। আর টাকা রেখে দিন। আপনার যেখানে, যেভাবে মন চায়, খরচ করবেন।”

–“তারমানে, আপনি আমার একটা আবদারও রাখবেন না?”

–“আরেহ রাগ করবেন না। একটা কেন, আমি আপনার হাজারটা কথা রাখবো। তবে, রাখার মতো হলে। ঠিক আছে?”

সুমি কিছু না বলেই মুখ ভার করে বসে রইলেন। বুঝতে পারলাম, হয়তো রাগ করেছে। রাগে মুখ লাল হয়ে গেছে। ফর্সা মেয়েদের রাগী চেহারাও দেখতে, খুব ভালো লাগে। রাগ ভাঙানোর জন্য বললাম, “আপনাকে আমি জামিলাহ ডাকতে পারি?”

–“কেন?” তিনি মুখ খুললেন।

–“কারণ, স্ত্রীদেরকে সুন্দর নামে ডাকা সুন্নাত। আর আমার মনে হয়, আপনার নাম জামিলাহ হলে, আপনার সাথে একদম মিলে যেতো।”

–“কীভাবে?” অবাক হয়ে জানতে চাইলেন।

–“কারণ, জামিলাহ অর্থ সুন্দরী আর…।”

–“আপনি কিন্তু লজ্জা দিচ্ছেন…।” বলেই তিনি মুচকি হেসে দু’হাতে মুখ ঢেকে বললেন, “আচ্ছা, মা খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহা তো রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বড় ছিলেন। তাহলে, তিনি নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কী বলে সম্বোধন করতেন? মানে, তুমি নাকি আপনি?”

বুঝতে পারলাম, তিনি আমাকে কী বলে সম্বোধন করবেন, তা নিয়ে খুব চিন্তিত। বললাম, “আরবী ভাষায় তুমি এবং আপনি বুঝাতে একই শব্দ বা সর্বনাম ব্যবহার হয়। তবে, আমি আপনার ছোট,
তাই, আপনার ইচ্ছা হলে, আমাকে তুইও বলতে পারবেন। হেহেহেহে।”

–“না, এমন বলবেননা। আপনি আমার বয়সে ছোট হলেও, আপনার মর্যাদা আমার উপরে। আমি তাহলে, তুমি বলবো। আমার কাছে এটা সবচেয়ে মধুর ডাক। আর আপনিও, আমাকে তুমিই সম্বোধন করবেন?”

–“আচ্ছা, ইনশাআল্লাহ।”

–“আর প্লিজ, আমার কোনো ভুল হলে আমাকে সাথেসাথে শোধরে দিবেন। আপনার সাথে আমি জান্নাত পর্যন্ত যেতে চাই।”

–“আমিও চাই। তাই, আজ তোমাকে এমন একটা ভুলের কথা বলবো, যা তুমি বিয়ের আগে করতে।”

–“কী ভুল?” সে অবাক হয়ে জানতে চাইলো।

–“রাস্তায় গায়রে মাহরামকে সালাম দেওয়া। তুমি কিন্তু, আমাকে প্রায়ই সালাম দিতে। রাস্তাঘাটে বা আর যেকোনো জায়গায় হোক, গায়রে মাহরামকে সালাম দেওয়া নিষেধ। কুরআনে মেয়েদেরকে পর পুরুষের সাথে মোলায়েম, নম্র কণ্ঠে কথা বলতেই নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, মেয়েদের কণ্ঠ শুনেও ছেলেরা প্রেমে পড়ে যেতে পারে। তবে হ্যা, কোনো কোনো আলেম বলেন, ‘ফিতনার আশংকা যদি না থাকে, তাহলে গায়রে মাহরামকেও সালাম দেওয়া যায়’। যেমন, কোনো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে বা যার কণ্ঠে মোহ নাই, যার সাথে কথা বলতে মজা লাগবেনা। কিন্তু, এটা থেকেও আমাদের বিরত থাকা উচিত। এককথায়, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সালাম দেওয়া যাবেনা কোনো গায়রে মাহরামকেই।”

–“ওহ্ আচ্ছা। কিন্তু, আমি তো আগে জানতামনা। জানোই তো, কলেজে পড়াশোনা করেছি! এছাড়া, তোমাকে এমনিতেই সালাম দিতাম। আজ থেকে আর কাউকে দিবো না। এভাবে সবসময়ই তুমি শিক্ষকের মতো আমার ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিও।”

★সমাপ্ত
ইসলামিক গল্প

27 Views
No Comments
Forward Messenger
. 4

রোজা রাখা ফজিলত
-
- -
Basics Press Notice
1
Technology Updates
10
Electronics
2
Android Programing
16
iOS Programing
2
Computer Programing
13
Wireless Fidelity
4
Hacking tutorials
15
Mobile Networks
3
Videos Programing
5
Movie Review
4
Freelancing
35
Web Development
18
Social Network
23
Politics News
2
Education Guideline
6
Religious Fiction
15
Magic Tricks
3
LifeStyle
17
Uncategorized
40
No comments to “ইসলামিক গল্প 🥰🥰”