purbo mizan-
purbo mizan
Uncategorized
14 Apr 2022 (1 month ago)
kendua, netrokona, mymensing, Bangladesh
খোকা গেছে মাছ ধরতে ক্ষীর নদীর কূলে

খোকা গেছে মাছ ধরতে ক্ষীর নদীর কূলে

আবার নাহয় খোকা মাছ ধরতে যাবে।

মেয়েকে হাসিখুসির ছবি দেখিয়ে , বলি ,- এই দেখ , খোকা গেছে মাছ ধরতে ক্ষীর নদীর কূলে…..
মেয়ে আমার বুদ্ধিমতী , ছবির দিকে একটু তাকিয়ে বলে ,- ক্ষীর কই ?
সত্যি , রঙিন ছবিতে নদীটা তো আর পাঁচটা নদীর মতোই ,নীল রঙে আঁকা জলের ছবি ।
ভাবলাম , শিল্পী ক্ষীরের নদী আঁকতে পারেননি । মেয়েকে বললাম , -জলের তলায় আছে তো ক্ষীর , তাই দেখা যায় না ।
মেয়ে মাথা নেড়ে ছবি দেখতে লাগলো । বোধহয় জলের তলায় ক্ষীর খুঁজছিল ।
আমার কেন যে মনে হলো , বাংলাদেশে এত খাল-বিল-নদী-নালা থাকতে , খোকা কেন ক্ষীর নদীতেই গেল ? ক্ষীর নদীতে কি মাছ থাকে ? কেমন সে মাছ ? এই ক্ষীর নদী কি সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে ? সে-ই ক্ষীর সমুদ্র , যেখানে অনন্তশয্যায় ভগবান বিষ্ণু বিশ্রাম নিচ্ছেন আধশোয়া হয়ে , আর লক্ষীঠাকরুন তার পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ? তাহলে মাছটি কি দশাবতার স্তোত্রের সেই মীন অবতার ?

ধ্যুৎ , সবকিছুতেই মিথ খুঁজে বেড়ানো একটা বাজে স্বভাব । তার চেয়ে ভাবা যাক , খোকা মাছ ধরতে গেছে , এই কথাটুকু নিয়ে । জলে থাকে মাছ , একথা তো আমার ছোটো মেয়েটাও জানে । তাহলে খোকা কেন জানে না ! এই খোকাটি বোধহয় পাকা মাছ শিকারী নয় , কারণ সে প্রথমেই মাছ ধরার জন্য একটা ভুল জায়গা বেছে নিয়েছে । ক্ষীর নদীতে মাছ ধরতে কোনোও জ্ঞানগম্যিওয়ালা মানুষ যায় না । তাহলে , খোকাকে তো প্রথমেই একটা বুদ্ধু বানিয়ে দেওয়া হলো । যেখানে মাছ থাকা সম্ভবই না , সেখানে সে মাছ ধরতে গেছে ।

এরপরের ঘটনা তো আরও হাস্যকর ব্যর্থতার । খোকার মাছধরার ছিপ কোলাব্যাঙে নিয়ে যায় , আর মাছটা নিয়ে যায় চিলে । তাহলে , এই যে এত তোড়জোড় করে খোকা মাছ ধরতে গেল , তার নীটফল দাঁড়ালো , মাছ তো নয়ই , মাছধরার সরঞ্জামটুকুও গেল । শুধু এইটুকু ! এই করুণ হাস্যরসটুকু জানানোর জন্যই তবে এত বছর ধরে মায়েদের মুখে মুখে বলা হয়েছে এই ছড়া ? নাকি এর মধ্যেও রয়ে গেছে , বাঙালি জীবনের কোনোও করুণ সামাজিক অভিজ্ঞতার ইতিহাস ?

তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে অদ্বৈত মল্লবর্মন , বাংলাদেশে মালোদের জীবনকে তুলে ধরেছিলেন । প্রায় বিত্তহীন সেইসব মানুষ । মাছে ভাতে বাঙালির পাতে মাছ জুগিয়ে যেতে এই মানুষদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে কেড়ে আনতে হয় জলের ফসল , কিন্তু সেই ফসলের প্রকৃত মালিকানা তাদের ছিল না । এই ফসলও এমন যে , নির্দিষ্ট সময়ের পর তা পচে যাবে । তৎক্ষণাৎ বিক্রি না হলে , তা আর ব্যবহারই করা যাবে না । এই অনিশ্চিতি তাদের অর্থনৈতিক নিশ্চিতি দেয়নি । অন্যদিকে হিন্দু সমাজ কাঠামোয় তাদের যে নিম্নবর্গীয় স্থান চিহ্নিত করেছিল , তাতে সামাজিক সুস্থিতিও তাদের ছিল না । এই দুই অনিশ্চিতির মধ্যে যে জীবন , সেই জীবনে মাছ শিকারের উপকরণ জাল ও নৌকাও থাকে না বেশিরভাগ মালোর । নিতে হয় মহাজন বা বেপারিদের কাছ থেকে ধার হিসাবে বা আগাম হিসাবে । মাছ ধরার পর একটা অংশ চলে যায় তাদের ঋণ মেটাতে । বাকি অংশ সরাসরি বাজারে বা বেপারিদের (মধ্যসত্বভোগী) বিক্রি করে তার সংসার ও বেঁচে থাকা । সেখানে অর্থাৎ বাজার যারা বসায় , তারাও যখন বাজারে বসার মাশুল আদায় করতে চায় মাছের ভার পিছু , তখন ভার পিছু মাশুল দেওয়ার পর , কী থাকে অইসব মানুষদের হাতে মাছ শিকার করে আনলো নদীর বুক থেকে ।

অর্থাৎ উচ্চবর্গীয় মিথ ইত্যাদিকে পরিত্যাগের বদলে , এই মিথগুলোকেই লৌকিক যুক্তি সাজিয়ে নিজেদের মতো করে নিয়ে , নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হচ্ছে নিম্নবর্গীয় চৈতন্যের একধরণের প্রতিবাদী প্রকাশ ।

এই প্রকাশ প্রবণতা মনে রেখে ক্ষীর সমুদ্র বা ক্ষীর নদীর কথা যদি আমরা ভাবি, তবে দেখা যাবে হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী এই ক্ষীরসমুদ্র মন্থন করেই তুলে আনা হয়েছিল , ধন-সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষীকে । মালোদের জীবনজীবিকাও নদীর গভীর থেকে তুলে আনা মাছের উপর নির্ভরশীল । মাছই তাদের ধন ।

এখন মাছ তুলে আনার যে উপকরণ , জাল , পলো , বড়শি সেগুলো তাদের নয় । অনেকক্ষেত্রেই আড়তদার বা দাদন খাটানো মহাজনদের । তাদের গদিতে বসে থাকার ধরণটি কল্পনা করলে , পেট ফোলা , আধচোখ বোজা ব্যাঙদের সঙ্গে কেরিকেচারসুলভ একটা সাদৃশ্য সহজেই চোখে পড়বে । খোকার ছিপ যখন কোলা ব্যাঙ নিয়ে যায় , তখন কি অবচেতনেও জাগেনি , আড়তদার , দাদনদার , মহাজনদের চেহারা ? যদিও জমিদারের নায়েব , লেঠেলদের জুলুমের কোনোও আখ্যান অদ্বৈত মল্লবর্মন আমাদের শোনাননি , তবু তাদের ধন অর্থাৎ মাছের ছো মেরে নিয়ে যাওয়া চিলের অভাব কোনোও কালেই ছিল না ।

তাহলে খোকার মাছ ধরতে যাওয়ার কাহিনিটি যে শেষ পর্যন্ত কোলাব্যাঙ আর চিলের দ্বারা উপকরণ আর সম্পদ কেড়ে নেওয়ার কাহিনিতে পর্যবসিত হয় । আর জেলে মালোদের জীবন সংগ্রাম পরিণতি পায় ব্যর্থতায় ।

এই ব্যর্থতার করুণ কাহিনি কি অন্যভাবে লেখা রইল না , এই শিশুতোষ ছড়ায় ?
ভাবতে ভাবতে মেয়ের কথায় চমকে উঠি । মেয়ে জানতে চাইছে ,-বাবা , অ বাবা , খোকা তবে কী নিয়ে বাড়ি ফিরবে ?

উত্তর আমিও জানি না ।

40 Views
No Comments
Forward Messenger
. 3

covid-19 symptoms and solution
-
- -
ফিশিং কি?
-
- -
জাতীয় সংগীত
-
- -
প্রেমের গল্প
-
- -
ব্ল্যাকহোল গল্প।
-
- -
Basics Press Notice
1
Technology Updates
10
Electronics
2
Android Programing
16
iOS Programing
2
Computer Programing
13
Wireless Fidelity
4
Hacking tutorials
15
Mobile Networks
3
Videos Programing
5
Movie Review
4
Freelancing
35
Web Development
18
Social Network
23
Politics News
2
Education Guideline
6
Religious Fiction
15
Magic Tricks
3
LifeStyle
17
Uncategorized
40
No comments to “খোকা গেছে মাছ ধরতে ক্ষীর নদীর কূলে”