Tamim Ahmed-
Tamim Ahmed
Politics News
13 Dec 2021 (5 months ago)
Araihazar, Narayanganj, Dhaka, Bangladesh
জুনকো ফুরুতার হত্যাকাণ্ড – Murder Of Junko Furuta – বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় জাপানের এই হত্যাকাণ্ড

আজ আমি আপনাদের সাতে শেয়ার করতে যাচ্ছি জুনকো ফুরুতার নির্মম হত্যাকান্ডের কথা যা দুনিয়ার সব পাশবিকতাকেও হার মানায়,মৃত্যু কথা শুনলেই একটা নাম মাথায় ঘুরে – জুনকো ফুরুতা।

জুনকো মিসাটোর প্রিফ্যাকচার এর ইয়াশিও মিনামি হাই স্কুলের ভালো একজন ছাত্রী।

১৭ বছর বয়সী জাপানিজ মেয়ে জুনকো ২৫ নভেম্বর, ১৯৮৮ সালে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিলো কিন্তু সে আর কখনোই বাড়ি ফিরতে পারেনি।

জো কামিসাকু এবং তার ৩ সাথি জুনকোকে কিডন্যাপ করে। তারপর একটি ঘরে ৪৪ দিন তাকে বন্দী করে রাখে।


নামঃ জুনকো ফুরুতা
জন্মঃ ১৮ই জানুয়ারি ১৯৭১
জন্ম স্থানঃ মিসাতো, সাইতামা(শহর), জাপান
মৃত্যঃ ৪ জানুয়ারি ১৯৮৯ (বয়স ১৭) আদাচি, টোকিও, জাপান
বয়সঃ ১৭ বছর ৩ মাস
মৃত্যর কারণঃ মানষিক আঘাত
পেশাঃ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী
পরিচিতির কারণঃ নির্যাতন এবং হত্যার শিকার
হত্যাকারীঃ হিরোশি মিয়ানো, জো ওগুরা, শিনজি মিনাতো, ইয়াসুশি ওয়াতানাবে

রেপিস্টরা জুনকোর ক্লাসমেট ছিলো। শুধু রিভেঞ্জ নেয়ার জন্যই তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। কারণ জুনকোর না করেছিল ছেলেটির সাথে সম্পর্ক করা জন্য।

1988 সালের নভেম্বর থেকে 1989 সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে এই নির্যাতনটি চালিয়েছিল মূলত ৪ জন তরুণ- হিরোশি মিয়ানো, জো ওগুরা, শিনজি মিনাতো এবং ইয়াসুশি ওয়াতানাবে।

১ম দিন -২৫ নভেম্বরঃ তাকে ধর্ষণ করা হয়, স্ট্রিপ ড্যান্স করানো হয়। লাইটার দিয়ে তার চোখ, নাক, কান জ্বালানো হয়। গরম লোহা তার ভ্যাজাইনাতে প্রবেশ করানো হয়। তাকে ভালো কিচ্ছু খেতে দেওয়া হয়না। জোর করে তেলাপোকা আর প্রস্রাব খাওয়াতো।

১১তম দিন -১ ডিসেম্বরঃ তাকে বেধরক মারধর করে, তার মুখ কনক্রিটের ফ্লোরের উপর রেখে তার উপর লাফানো হয়। তার চার হাত-পা ধরে চারজন তাকে ঘুরায় এবং এবং সমস্ত শক্তি দিয়ে তাকে চারজন চারদিকে টান দেয়।

সিলিং এর সাথে ঝুলিয়ে তার মাথা নিচে দিয়ে সারা রাত রাখা হতো। তার নাকে এত রক্ত জমে গিয়েছিলো যে সে শুধু মুখ দিয়ে নিশ্বাস নিতে হতো।

সিগারেট দিয়ে তার হাত পোড়ানো হয়। কিছু দাহ্য লিকুয়িড তার হাতে পায়ে ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

২০তম দিন -১০ ডিসেম্বরঃ ব্যাম্বু স্টিক দিয়ে তাকে মারা হয়, এর ফলে পা ভেঙে যায়। তার হাটাও বন্ধ হয়ে যায়। ভালো করে নড়াচড়া করতে পারত না।

২৫তম দিন -১৫ ডিসেম্বরঃ ভারী বস্তু দিয়ে হাত ভেঙে দেয়া হয় আর নখ উপড়ে দেয়। গল্ফ স্টিক দিয়ে পেটানো হয়। প্রাইভেট পার্টে সিগারেট জ্বালিয়ে ভ্যাজাইনাতে ঢুকিয়ে দেয়। তার নিজের ইউরিন তাকেই খেতে দেয়। আবার লোহার রড দিয়ে পেটায়। চিকেন গ্রিল করার রড তার প্রাইভেট পার্টে প্রবেশ করায়। সে পালানোর চেষ্টা করলে আবার তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এই যাত্রায় সে বেঁচে যায়।

৩০ তম দিন – ২০ ডিসেম্বরঃ তার মুখে গরম মোম ঢেলে দেয়। চোখের পাতা লাইটার দিয়ে জ্বালায়। নিপল কেটে দেয়া হয়। গরম বাল্ব তার ভ্যাজাইনাতে প্রবেশ করায়। কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪০ তম দিন -৩০ ডিসেম্বরঃ জুনকো কিডন্যাপারদের কাছে মৃত্যুর ভিক্ষা করে।

৪৪ তম দিন -৪ জানুয়ারিঃ জুনকোকে আবার লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। প্রায় দুই ঘন্টা চলে এই টর্চার। এই ৪৪ দিনে তাকে ৪০০ বারের বেশি ধর্ষন করা হয়। এই ৪৪ দিন পুরো সময়টাই শীতকাল ছিল। তার জামা-কাপড় দ্বিতীয় দিনই পুড়ে ফেলা হয়।

এরপর চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের ভিতর ৫ ই জানুয়ারী ১৯৮৯ সালে, হত্যাকারীরা জুনকে কনক্রিটের ড্রামে ২০৮ লিটার কনক্রিটের মাঝে চাপা দিয়ে রেখেছিলো।

১৭ বছর বয়সী জুনকো ফুরুতা মাটিচাপা, তীব্র ব্যাথা, কষ্ট আর প্রচণ্ড একাকিত্ব নিয়ে ৪ জানুয়ারি, ১৯৮৯ মারা যায়।

এই কারণে তার খুনের কেসের নাম ছিল-‘Concrete-encased high school girl murder case’।

এই মৃত্যুর কাছে আমার পৃথিবীর যাবতীয় মৃত্যুকে খুব ছোট মনে হয়। আমরা ছোট খাটো ব্যাপারেই ডিপ্রেসড হয়ে পড়ি। তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে আত্মহত্যা করে ফেলতে একটুও দ্বিধাবোধ করি না।

জুনকোও নিজের মৃত্যু চেয়েছিলো কিন্তু তার ব্যাথার কাছে আজকের তরুণীর ব্যাথাটা নিতান্ত ছাইপাঁশ।


পরবর্তীতে তদন্তর ফলে জো কামিসাকু কে সন্দেহ করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তিতে বাকি তিন জনকে ধরা হয়। এবং পুরো ঘটনাটি কি হয়েছিল, তা এক এক করে সবার থেকে জানা যায়।

এবং এই ঘটনাটি নিউজ পেপার এর মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। এবং আদালত তাদের চারজনকে জীবিত অবস্থায় ড্রামের ভিতর ৪৪ দিন মাটি চাপা দেওয়ার আদেশ করে। যদিও এটি আদালতের নিয়ম নয়। জুনকো ফুরুতার মার কথা রাখতে গিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এবং ৪৪ দিন পর তাদের লাশ ড্রামের ভিতরে গলে যায়।

100 Views
No Comments
Forward Messenger
. 11

No comments to “জুনকো ফুরুতার হত্যাকাণ্ড – Murder Of Junko Furuta – বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় জাপানের এই হত্যাকাণ্ড”