Tamim Ahmed-
Tamim Ahmed
Education Guideline
8 Dec 2021 (5 months ago)
Araihazar, Narayanganj, Dhaka, Bangladesh
শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছাত্র-ছাত্রীদের আদর্শবান করতে হলে শিক্ষক এর কি কি করনীয়?

শিক্ষকের গুণাবলি

যিনি আমাদের শিক্ষা দেন তিনি শিক্ষক। পৃথিবীতে সবচাইতে সম্মান ও মর্যাদার পেশা হলাে শিক্ষকতা। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন- “আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।” (ইবনে মাজাহ)
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশার লােকের বৈশিষ্ট্যগুলােও শ্রেষ্ঠ হওয়া প্রয়ােজন। নিমে শিক্ষকের কতিপয় বৈশিষ্ট্য। বর্ণনা করা হলাে :
ক. একজন ভালাে শিক্ষক অবশ্যই আদর্শবান হবেন। তিনি-
(১) আদর্শিক জ্ঞানের অধিকারী হবেন,
(২) নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন ও অন্যান্য জীবন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন;
(৩) উত্তম আদর্শের ভিত্তিতে তিনি ছাত্রদের গড়ে তুলবেন;
(৪) কথা ও কাজে মিল রাখবেন;
(৫) আদর্শ প্রচারে কৌশলী ও সাহসী হবেন;
(৬) শিক্ষকতাকে নিজের জীবনের পেশা ও ব্রত হিসেবে নেবেন;
(৭) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে সামনে রেখে এ পেশায় আত্মনিয়ােগ করবেন ও অন্যায়ের ব্যাপারে আপসহীন হবেন।

খ. একজন ভালাে শিক্ষক অবশ্যই গভীর জ্ঞানের অধিকারী হবেন। তিনি-
(১) সবসময় জ্ঞানচর্চা করবেন;
(২) ক্লাসে পড়ানাের জন্য আগেই প্রস্তুতি নেবেন;
(৩) সমসাময়িক বিষয়ে ধারণা রাখবেন;
(৪) মেধা বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন;
(৫) বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করবেন।

গ. একজন ভালাে শিক্ষক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হবেন। তিনি-
(১) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন;
(২) শালীন, মার্জিত ও ব্যক্তিত্বরক্ষাকারী পােশাক পরিধান করবেন;
(৩) বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও প্রকাশভঙ্গির অধিকারী হবেন;
(৪) মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখবেন;
(৫) নিয়মনীতির ক্ষেত্রে কঠোর হবেন;
(৬) সুস্থ মন ও দেহের অধিকারী হবেন।

ঘ. একজন ভালাে শিক্ষক ছাত্রদের প্রতি মমত্ববােধ ও ভালােবাসা সম্পন্ন হবেন। তিনি-
(১) স্নেহ-মমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন।
(২) সকল শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখবেন।
(৩) ছাত্রদের মাঝে জ্ঞান লাভের উৎসাহ তৈরি করবেন।
(৪) প্রয়ােজনে একটি বিষয় বার বার বলবেন।
(৫) ছাত্রদের একান্ত আপনজন হবেন।
(৬) শিক্ষার্থীদের অহেতুক ধমক দেবেন না অথবা শাসন করবেন না।
(৭) তাদেরকে প্রহার বা তাদের প্রতি নির্মমতা প্রদর্শন করবেন না বরং দরদি মন নিয়ে তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন। প্রখ্যাত সাহাবি মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলানি রাসুল (স.) সম্পর্কে বলেন, “আমি। তার পূর্বে ও পরে তার চেয়ে সুন্দর শিক্ষাদানকারী শিক্ষক আর দেখিনি। আল্লাহর কসম তিনি আমাকে বকাবকি করেননি, মারেননি এবং গালমন্দও করেননি।”

ঙ. (মুসলিম) ও, একজন ভালাে শিক্ষক বিচক্ষণ হবেন। তিনি ছাত্রদের মনমেজাজ, পছন্দ-অপছন্দ ও গ্রহণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন।
চ. একজন ভালাে শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রতি হবেন আন্তরিক ও দরদি। প্রশাসনের সাথে থাকবে তার সুসম্পর্ক।

কর্মজীবনে আমরা শিক্ষকতার মহান পেশায় নিযুক্ত হলে এসব বৈশিষ্ট্য অর্জন করব এবং আদর্শ শিক্ষক হব।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর। পিতা-মাতার পরই শিক্ষকের মর্যাদা। শিক্ষক পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র। পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে শুধু লালন-পালন করেন। পক্ষান্তরে শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তােলেন একজন শিক্ষক।

শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। কাজেই একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন, শিক্ষার্থীরা তাই শিখবে। শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী হবে শিক্ষকরাই ছােট বেলায় তা শিখিয়ে দেন। শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় নিয়ম-কানুন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বিনয়, নম্রতা, নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে সার্বিক উন্নতি লাভ করে। ছাত্রদের সার্বিক কল্যাণ কামনায় শিক্ষকগণ যেভাবে ত্যাগের পরিচয় দেন তার জন্য শিক্ষকগণের যথাযথ সম্মান করা আমাদের কর্তব্য।

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলাে আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা-পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন, শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎ পথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়, অন্যদিকে ছাত্রও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে বড় সম্পদশালী হতে পারে, শিক্ষার্থীও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ করে বড় জ্ঞানী হতে পারে।

নবি ও রাসুল (আ.) গণ হলেন শিক্ষক আর তাঁদের উম্মত হলাে তাদের ছাত্র। রাসুলুল্লাহ (স.) এই উম্মতের জ্ঞানীদেরকে নবিদের উত্তরাধিকারী বলেছেন। তিনি বলেন, “আলেমগণ (জ্ঞানীরা) হলেন নবিদের উত্তরাধিকারী। তারা সম্পদ ও মালের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁরা হলেন জ্ঞানের উত্তরাধিকারী।” (তিরমিযি) সুতরাং পুত্র ও পিতার মাঝে যেমন উত্তরাধিকারের সম্পর্ক আছে। ছাত্র-শিক্ষকের মাঝেও তেমন সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আমরা এই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.) বলেছেন, “যার কাছে আমি একটি শব্দও শিখেছি আমি তার দাস। তিনি ইচ্ছা করলে আমাকে বিক্রি করতে পারেন কিংবা আযাদ করে দিতে পারেন কিংবা ইচ্ছা করলে দাস বানিয়েও রাখতে পারেন।” তাই তাঁর মতে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হলাে ভৃত্য-মুনিব সম্পর্ক। এক বিনম্র শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বস্তুত ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হবে সুন্দর, যেখানে অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালােবাসা বিরাজ করবে।

105 Views
No Comments
Forward Messenger
. 15

Basics Press Notice
1
Technology Updates
9
Electronics
2
Android Programing
16
iOS Programing
2
Computer Programing
13
Wireless Fidelity
4
Hacking tutorials
15
Mobile Networks
3
Videos Programing
5
Movie Review
4
Freelancing
33
Web Development
18
Social Network
23
Politics News
2
Education Guideline
6
Religious Fiction
15
Magic Tricks
3
LifeStyle
17
Uncategorized
39
No comments to “শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছাত্র-ছাত্রীদের আদর্শবান করতে হলে শিক্ষক এর কি কি করনীয়?”