Tamim Ahmed-
Tamim Ahmed
LifeStyle
7 Nov 2021 (6 months ago)
Araihazar, Narayanganj, Dhaka, Bangladesh
Knowing about Faatiha Aayat will change your life [ফাতিহা আয়াত]

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ বছর বয়সী ফাতিহা আয়াত নিউইয়র্ক নগরের Gifted and Talented Programs এর চতুর্থ গ্রেডের ছাত্রী।


জাতীয় পর্যায়ে গণিত প্রতিযোগিতায় কয়েকবার অংশগ্রহণ করেছে এবং সর্বশেষ গণিত প্রতিযোগিতা অনারেবল মেনশন এ প্রথম হয়েছে।

তাছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বিষয় কথা বলেন এবং সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের অধিকার বিষয়ে আলোচনা করেন।


বিভিন্ন বিষয়ে ছবি আঁকতে আর চিঠি লিখতে ভালোবাসে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও পিতৃভূমির প্রতি রয়েছে তাঁর অসীম ভালোবাসা। তার আব্বুর বাসা বাংলাদেশে।

আর তাই সাত বছর বয়সী ফাতিহা রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের বনাঞ্চল ধ্বংস এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বক্তৃতা করেছে জাতিসংঘে।


একবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের এক গণিত প্রতিযোগিতায় তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটিতো আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্ট নয়, তা সত্ত্বেও তুমি কেন বহন করছ বাংলাদেশের পতাকা? তার উত্তরে ফাতিহা আয়াত বলে, ‘আমার পূর্বসূরির দেশের কেউ যেহেতু আগে কখনো এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়নি, তাই আমি আমার নিজের এই অর্জনকে তাদের সবার অর্জন বলে মনে করি। এই পুরস্কার আমি বাংলাদেশের সকল মেধাবী গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীদের উৎসর্গ করছি।’

সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তার হৃদয়ে সমুজ্জ্বল বাংলাদেশ। ফাতিহা সর্বশেষ জাতিসংঘে বিশ্ব যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিষয় নিয়ে ভাষণ দেয় গত ১২ আগস্ট। সেখানে উপস্থিত জাতিসংঘের সহকারী অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সত্য ত্রিপাঠি তার ভাষণে ফাতিহার কথা উল্লেখ করেন।

এর আগে ফাতিহা ১৬তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন ২০১৯, জাতিসংঘ দিবস ২০১৭ এবং উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাজেন্ডা ২০১৭–এ অংশ নেয়। এসব অনুষ্ঠানে ফাতিহা শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য, পারিবারিক সহিংসতা, শরণার্থীশিবিরে অমানবিক জীবন ও শিশুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কথা বলে। এমনকি ফাতিহা যেসব গণিতের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, সেখানেও সে শিশুদের আনন্দময় শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলে।

গণিত প্রসঙ্গে ফাতিহা আয়াত জানায়, যেকোনো প্রতিযোগিতায় শুরুর দিকে সে সব সময় খুব নার্ভাস থাকে। তাকে নার্ভাস হতে দেখলেই তার বাবা রেগে যায়। তার বাবা আত্মবিশ্বাসী থাকার কোনো বিকল্প ভাবতে পারে না।


ফাতিহার মা তখন তাকে সাহস দেয়। যেমন ২০১৭ সালের ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্স পেন্টাথলন অ্যাকাডেমিক টুর্নামেন্টে ইভেন্ট ছিল পাঁচটি। ফাতিহা প্রথম দুটি ইভেন্টেই হেরে যায়। কারণ, সে ভীষণ নার্ভাস ছিল। তার বয়স তখন সাড়ে পাঁচ বছর, একেতো জীবনের প্রথম কোনো গণিত টুর্নামেন্ট, তাও আবার এত বড় মাপের জাতীয় আসর। মা তাকে খুব সাহস দেয়, অনেক আদর করে। তারপর ফাতিহা বাকি তিনটি ইভেন্টে জয়ী হয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওই প্রতিযোগিতায় ‘অনারেবল মেনশন’ খেতাব অর্জন করে। এ ছাড়া সে জেইআই ম্যাথ অলিম্পিয়াড ২০১৯, ন্যাশনাল ম্যাথ ফেস্টিভ্যাল ২০১৯, গ্লোবাল ম্যাথ উইক ২০১৭–এ অংশ নেয়।

ফাতিহার করা কিছু ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল। তাদের বাসায় লিভিং রুমের এক কোনায় তার স্টুডিও আছে। আগে বাবা-মা সাহায্য করত, এখন সে নিজেই সাজগোজ করে লাইট-ক্যামেরা এবং গ্রিন স্কিন রেডি করে ভিডিও রেকর্ড করে, নিজে নিজেই Premiere Pro অথবা Fibre Cut Pro’–তে এডিট করে নিজেই ভিডিও আপলোড করে।


গণিত ছাড়াও ফাতিহা এইচটিএমএল কোডিং, বিজ্ঞান, ভূগোল, কোরআন এর তাফসির এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কনটেন্ট আপলোড করে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ফাতিহার যেমন ভিডিও আছে, তেমনি গার্বেজ ট্রাকের বিষয়ে নিউইয়র্কের মেয়রকে লেখা তার চিঠি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন সেটা নিয়েও ভিডিও আছে। আমাজনে ফাতিহার দুটি বই আছে, যার মোড়ক উন্মোচন করেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক।

নাসায় গিয়ে নভোচারী ডন থমাসের, ন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে নভোচারী নিকল স্টট আর সায়েন্স পোর্টে গিয়ে বিজ্ঞানী ন্যাথান রুথম্যানের সঙ্গে দেখা করার পর থেকে ফাতিহা নভোচারী হতে চাইত।

তার মনে হতো, মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখার চেয়ে আনন্দের বুঝি আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু প্রথম রোজা রাখার সেই দিনটার পর থেকে সে আর নভোচারী হতে চায় না। এখন সে চায় বড় হয়ে এমন কিছু করতে যাতে করে বিশ্ব সভ্যতায় তার অবদান রাখে, যেন আর কোনো শিশুও ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় একটি দিনও না কাটায়।

সেটা নানাভাবেই হতে পারে। যেমন, সে যদি ভূতাত্ত্বিক প্রকৌশলী হয়, বৃষ্টির পানি নষ্ট না করে আরও বেশি করে ব্যবহারের জন্য রেইন ওয়াটার রিজার্ভার বানাবে, যা পৃথিবীর সব অঞ্চলের শিশুর তৃষ্ণা মেটাবে। জেনেটিক সায়েন্টিস্ট হলে বিভিন্ন খাবারের ডিএনএ প্রোফাইল আবিষ্কার করে সেগুলোকে শিশুদের জন্য আরও বেশি পুষ্টিকর করবে। মোট কথা, সে যা-ই হোক, সে চায় পেশাটা হোক শিশুদের জন্য।


ফাতিহা জানায়, ‘চার বছর বয়সে আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসি, তখন থেকেই আমার ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ যেন ইংরেজি হয়ে না যায়, সে বিষয়ে বাবা-মা ভীষণ নজর দিতেন। বাবা প্রতিদিন আমাকে সঙ্গে নিয়ে বিবিসি বাংলার খবর শোনেন, সেখানে কিছু না বুঝলে আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করি। মায়ের সঙ্গে আমি প্রতি সপ্তাহে বাংলা সিনেমা দেখি। আমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারি। নিউইয়র্কে থাকলেও আমি বাংলাদেশের বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক নিয়মিত পড়ি।’

ফাতিহা জানায়, ‘আমি অনেক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছি। বাবার অফিস সাজানো আমার পেইন্টিং দিয়ে। স্কুলের বিভিন্ন লিফলেট ও ম্যাটেরিয়ালে টিচাররা আমার আঁকা ছবি ব্যবহার করে। সম্প্রতি আমি আলাস্কা বেড়াতে গিয়েছি। ফিরে এসে সেখানে পরিচয় হওয়া ফরেস্ট রেঞ্জার, গ্ল্যাসিয়ার পাইলট, অ্যাডভেঞ্চার গাইড, ইকো আর্টিস্টদের চিঠি লিখেছি ও তাদের সঙ্গে তোলা ছবি পাঠিয়েছি।


ফাতিহা যেদিন প্রথম রোজা রাখে, আর অনেক ক্ষুধা তৃষ্ণা উপভোগ করে। সে দিন খুব খেতে চেয়েছিল। ইফতারের আগে ফাতিহার মনে হচ্ছিলো, পৃথিবীর সব খাবার আর পানি সে একাই খেয়ে ফেলবে। তার বাবা তখন তাকে বলেছেন, তার সেদিন যেমন ক্ষুধা লেগেছে, তেমনই ক্ষুধা–তৃষ্ণায় প্রতিদিন কাতর থাকে ইয়েমেন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, ইথিওপিয়ার তার বয়সী হাজারো শিশু। সেদিন থেকেই ফাতিহা তার স্বপ্ন বদলে ফেলেছে।

তাছাড়াও সে শিশুদের জন্য চায় এডুকেশন যেন ফান্নি করে দেয়। সে মনে করতো পড়ালেখা যদি অন্যান্য সব বিষয়ের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বেশি মজাদায়ক হয়। তাহলে শিশুরা বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

সে বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে কথা বলেছে। তার কথা অনুযায়ী বোঝা যায়। বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম অনেক দুর্বল। বাংলাদেশের যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি শিক্ষা দেওয়া হয় তা হলো তাদের দেশের সংস্কৃতি।

বিজ্ঞান বা অন্যান্য আইসিটি বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের অনেক পিছিয়ে থাকার কারণ তাদের এডুকেশন সিস্টেম। সে মনে করে নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতি তারা তাদের ম্যাগাজিন এবং ইন্টারনেট থেকে জানতে পারবে। এর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা করে বাড়তি পেশার দেওয়া ঠিক নয়। এর ফলে অনেক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা হার্ড মনে করে পিছিয়ে যাবে।


আর এরকম চিন্তা কয়জনের মাথায়বা আসে। তার প্রশংসা আমাদের সকলেরই করা উচিত। সে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে তার পৃতভূমির কথা চিন্তা করে। তাকে আমি আমার সালাম জানাই। সে যেন তার যাত্রা এগিয়ে যায়।

তার ইউটিউব এবং ফেসবুক লিংকঃ Youtube Facebook

তাহলে ভাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। প্রতিদিন নতুন নতুন আপডেট পেতে Basics Press এর সাথে থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে

423 Views
No Comments
Forward Messenger
. 25

Facebook sad stutus 😓😓😓 2022
-
- -
গ্রামিন জীবন😃↘️
-
- -
happy any time💖✔
-
- -
Basics Press Notice
1
Technology Updates
9
Electronics
2
Android Programing
16
iOS Programing
2
Computer Programing
13
Wireless Fidelity
4
Hacking tutorials
15
Mobile Networks
3
Videos Programing
5
Movie Review
4
Freelancing
33
Web Development
18
Social Network
23
Politics News
2
Education Guideline
6
Religious Fiction
15
Magic Tricks
3
LifeStyle
17
Uncategorized
39
No comments to “Knowing about Faatiha Aayat will change your life [ফাতিহা আয়াত]”